আখলাক আরবি শব্দ। এটি বহুবচন। এর একবচন হলো খুলুকুন। শাব্দিক অর্থ চরিত্র বা আচরণ। আখলাক দ্বারা মানুষের ভালোমন্দ সব আচরণকেই বোঝায়। তাই বলা যায়, মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব আচার ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ ঘটে, সেসবের সমষ্টি হচ্ছে আখলাক।
আখলাকে হামিদাহ হলো মানুষের প্রশংসনীয় আচরণগুলো। যেমন-সত্যবাদিতা, পিতামাতার প্রতি উত্তম ব্যবহার, শিক্ষকদের সম্মান করা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সহপাঠীদের প্রতি সদাচরণ, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটদের প্রতি স্নেহ ইত্যাদি। মোটকথা মানুষের মানবীয় সুন্দর আচরণসমূহ যা সমাজে প্রশংসিত হয়, তাকেই আখলাকে হামিদাহ বলে।
রিফাতের আচরণে আত্মীয়স্বজনের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কারণ শাহীন রিফাতের খালাতো ভাই। শাহীন সাভারের রানা প্লাজার একটি তৈরী পোশাক শিল্পে কাজ করে। ২৪ এপ্রিল ২০১৩ রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এতে বহুলোক হতাহত হয়। বিশেষ করে ঐ ভবনে যারা ঐ সময় অবস্থান করছিল। রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রায় তিন হাজার লোককে জীবিত এবং পাঁচশতের অধিক লোকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এ দুর্ঘটনার খবর শুনে ঐ ভবনে কর্মরত লোকদের আত্মীয়স্বজনরা সেখানে ছুটে আসে। কিন্তু রিফাত তার খালাতো ভাইয়ের খোঁজ নিতে যায়নি। এটা দারুণ অমানবিক কাজ। তাই বলা যায়, রিফাত আত্মীয়ের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
রানা প্লাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও রিফাত তার খালাতো ভাই শাহীনের কোনো খোঁজ নেয়নি। তার এ আচরণ আত্মীয়স্বজনের অধিকারকে খর্ব করেছে। এর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। এতে করে শাহীনের সাথে বা শাহীনের পরিবারের সদস্যদের সাথে রিফাতের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। হয়তো বা সম্পর্ক নষ্টও হয়ে যেতে পারে। অথচ রাসুলুল্লাহ (স.) আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট না করার জন্য আদেশ করেছেন। তিনি বলেন, “যে সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী লোক থাকে, সে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় না।" অন্যত্র তিনি বলেছেন, "আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে রিফাত আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
Related Question
View Allসিদক-এর অর্থ হলো- সত্যবাদিতা, সততা, সত্য কথা বলা, সত্য সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি।
মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদা বা উত্তম চরিত্র বলা হয়।
ফারজানার কর্মকাণ্ডে গিবত প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে তার বন্ধবী কাকলির বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দোষত্রুটি অন্য সহকর্মীদের নিকট বলে বেড়ায়।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে। একে পরনিন্দাও বলা যায়। গিবত একটি ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ। এটি কবিরা গুনাহ। এ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। রাসুল (স.) বলে, 'গিবত কী তা কি তোমরা জান?' লোকেরা উত্তরে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল (স.) বললেন, গিবত হলো তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে তোমার এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, আমি যা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, এটাও কি গিবত হবে? রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, 'তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই গিবত হবে। আর তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তা হবে 'বুহতান' বা অপবাদ।' (মুসলিম)
গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। গিবতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে সমাজজীবনে ঝগড়া-ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনুল করিমে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী : "তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে, নিশ্চয়ই তা তোমরা অপছন্দ করবে।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)
তাই ফারাজানার উচিত গিবত পরিহার করা এবং স্বাভাবিকভাবে কাকলির পদোন্নতিকে মেনে নেওয়া।
ফারজানা কাকলির দোষত্রুটি প্রকাশ করলে, হামিদা বেগম বলেন, "আপা, কোনো অবস্থাতেই কাকলি আপার অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে সমালোচনা করা ঠিক নয়।" হামিদা বেগমের এ বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি প্রকাশ করার নাম গিবত। গিবত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি কবিরাহ গুনাহ। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা একে অপরের গিবত করো না।" (সূরা আল 'হুজুরাত : ১২) গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং সমাজজীবনে ঝগড়া ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়। গিবত শোনাও পাপ, কেউ গিবত করলে 'তাকে এ জঘন্য কাজ হতে বিরত রাখা উচিত। আর এ কাজটিই হামিদা বেগম করেছেন। গিবত থেকে বিরত থাকলে কবিরাহ গুনাহ হতে বেঁচে থাকা যায়, অন্যের শত্রুতা হতে রক্ষা পাওয়া যায়। সর্বোপরি আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
সুতরাং সবার উচিত গিবত হতে নিজেকে রক্ষা করা এবং গিবত চর্চা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে।
আখলাকে হামিদাহ্ বা সচ্চরিত্র আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। দুনিয়ায় আগত সকল নবি-রাসুলই উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এছাড়াও পৃথিবীর স্মরণীয় ও বরণীয় মনীষিগণও উত্তম নৈতিক আদর্শ অনুশীলন করতেন। সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই ইসলামের যাবতীয় সৌন্দর্য ফুটে ওে ওঠে। এছাড়া এর মাধ্যমে ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন সুন্দর ও কল্যাণময় করা যায়। এজন্য আখলাকে হামিদাত্র বিশেষ প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!